Welcome to Mithu Seeds - মিঠু সিডস এ স্বাগতম

আমাদের সম্পর্ক

পেঁয়াজের বীজে আমরাই সেরা

উচ্চ ফলনশীল সুখ সাগর জাতের পেঁয়াজ ৩৩ শতাংশে গড়ে ১৮০ মন উৎপাদন হয়। Mithu Seeds এর সুখ সাগর পেঁয়াজের বীজ গুনগত মানে সেরা। আমাদের উৎপাদন কেন্দ্র হচ্ছে ইন্ডিয়ান জিরাট ও মেহেরপুর আনন্দবাস। এই সুখ সাগর পেঁয়াজের দানা শতভাগ গ্যারান্টি সহকারে কৃষকদের কাছে বিক্রয় করা হয়। এছাড়াও আমাদের নির্ধারিত ডিলারদের কাছে Mithu Seeds এর অরজিনাল সুখ সাগর পেঁয়াজের দানা পেয়ে যাবেন। Mithu Seeds কোম্পানি মাস্টার সুখ সাগর, Master M1 Hybrid, মাষ্টার হাইব্রিড সুখ সাগর, মাস্টার জিরাট সুখ সাগর, Master Red Teer Hybrid, মাস্টার নাসিক, নাসিক রেড এন ৫৩, বোল্ডার, লাল আপেল ইত্যাদি পেঁয়াজের দানা নিজ ক্ষেতে উৎপাদন করে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করছে। উচ্চ ফলনশীল সুখ সাগর জাতের পেঁয়াজ ৩৩ শতাংশে ২০০ মন পর্যন্ত উৎপাদন হয়ে থাকে।

শুধু তাই নয়, আমরা বাংলাদেশের নতুন নতুন এলাকায় পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের সহযোগিতার মাধ্যমে সঠিক পরামর্শ দিচ্ছি এবং উদ্বুদ্ধ  করছি।   

পেঁয়াজ চাষ সম্পর্কে ...

আমাদের বীজ- নিজস্ব জমিতে স্ব-যত্নে ও পরিচর্যায় উৎপাদিত

আমাদের পণ্য

আমাদের বীজ- নিজস্ব জমিতে স্ব-যত্নে ও পরিচর্যায় উৎপাদিত

৩৩ শতকে গড়ে ১৮০ মন উৎপাদিত

অঙ্গীকারনামা ও বিক্রয় শর্তাবলী

অঙ্গীকারনামা ও বিক্রয় শর্তাবলী

মিঠু সীডস কোম্পানি প্রোঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম মোবাইলঃ ০১৮১২-৬০০৯৯৫, ০১৭১৫-৪৯৪৮৭৯ আনন্দবাস, মুজিবনগর, মেহেরপুর Reg.No: SW/MOA/54406 Email: mithuseeds@gmail.com, Website: www.mithuseeds.com অঙ্গীকারনামা ও বিক্রয় শর্তাবলী কৃষক ভাইদের সর্বোচ্চ মানসম্মত বীজ সরবরাহ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মিঠু সীডস কোম্পানি নিম্নলিখিত শর্তাবলীতে অঙ্গীকারাবদ্ধ: ১. বীজের অঙ্কুরোদ্গম (Germination): আমাদের সকল জাতের পেঁয়াজের বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা ৮০%–৯০%। অনুগ্রহ করে জমিতে বীজ বপন বা ছিটানোর পূর্বেই অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা পরীক্ষা করে নিন। জমিতে ছিটানোর পর যেকোনো সমস্যার ক্ষেত্রে মিঠু সীডস কোনো প্রকার দায়ভার গ্রহণ করবে না। ২. জাতের নিশ্চয়তা: আমরা পেঁয়াজের জাতের ১০০% গুণগত মান ও সঠিকতার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। সরবরাহকৃত বীজ থেকে ভিন্ন জাতের পেঁয়াজ উৎপন্ন হলে, প্রতি কৃষককে বীজ ক্রয়ের মূল্যের ৩ (তিন) গুণ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফেরত দিতে মিঠু সীডস বাধ্য থাকবে। ৩. সংরক্ষণ ও পচন সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ: জমি থেকে পাকা পেঁয়াজ বা ভাল করে পেঁয়াজের গাছ শুকিয়ে পেঁয়াজ তোলার ১৫ দিনের মধ্যে যদি পেঁয়াজ পচে যায় কিংবা মুখ কাটার পর পুনরায় গাছ গজায় (জালায়), তবে মিঠু সীডস কৃষককে বীজ ক্রয়মূল্যের ২ (দুই) গুণ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। ( কিন্তু ইন্ডিয়ান নাসিক জাত সহ অন্যান্য ইন্ডিয়ান জাতের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য নহে) ৪. প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা আবহাওয়াজনিত ছাড়: জমি থেকে পাকা পেঁয়াজ বা ভাল করে পেঁয়াজের গাছ শুকিয়ে পেঁয়াজ তোলার অন্তত ২০-২৫ দিন আগে থেকে যদি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, শিলা বৃষ্টি বা ভারি বৃষ্টির পানির কারণে পেঁয়াজ নষ্ট বা পচে যায়, তবে তার জন্য কোম্পানি কোনো প্রকার দায়ভার গ্রহণ করবে না। ৫. বীজ ব্যবহারের শতভাগ সঠিক প্রমাণ নিশ্চিত করতে পেঁয়াজের কৌটা বা প্যাকেটের মুখ খোলা থেকে শুরু করে জমিতে ছিটানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটির একটি ধারাবাহিক (Uncut) ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। এটি প্রমাণ করবে যে আপনি 'মিঠু সিডস'-এর আসল বীজ ব্যবহার করেছেন। আপনার এই কার্যক্রমের উপযুক্ত ভিডিও প্রমাণ প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে, বীজ সম্পর্কিত যেকোনো দাবি বা দায়ভার 'মিঠু সিডস' কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না। (গ্রাহক ও কোম্পানির সুবিধার্থে বীজ ব্যবহারের পূর্বে সকল শর্তাবলী ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।) ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ শফিকুল ইসলাম মিঠু সিডস কোম্পানি
কোন সারের কি কাজ চলুন জেনে নেই

কোন সারের কি কাজ চলুন জেনে নেই

উদ্ভিদের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট কিছু কাজ করে। নিচে সহজভাবে প্রতিটি সারের কাজ দেওয়া হলো: ১. Urea (ইউরিয়া) প্রধান কাজ: এটি উদ্ভিদের নাইট্রোজেন (N) সরবরাহ করে। উপকারিতা: গাছকে দ্রুত বৃদ্ধি করতে এবং পাতা ঘন সবুজ করতে সাহায্য করে। এটি মূলত গাছের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়। ২. DAP (ডিএপি - ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) প্রধান কাজ: এতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস (P) দুই-ই থাকে। উপকারিতা: এটি গাছের শিকড় শক্ত করতে এবং গাছকে দ্রুত বড় করতে সাহায্য করে। চারা অবস্থায় এই সার দিলে শিকড়ের কাঠামো মজবুত হয়। ৩. Potash/MOP (পটাশ) প্রধান কাজ: এটি উদ্ভিদের পটাশিয়াম (K) সরবরাহ করে। উপকারিতা: পটাশ গাছকে রোগবালাই ও খরা থেকে বাঁচায়। ফলন বাড়াতে, ফলের আকার বড় করতে এবং ফলের মিষ্টতা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। এটি গাছের কান্ড শক্ত করে। ৪. Gypsum (জিপসাম) প্রধান কাজ: এটি ক্যালসিয়াম ও সালফার (S) সরবরাহ করে। উপকারিতা: এটি মাটির গঠন উন্নত করে এবং লোনা ভাব কমাতে সাহায্য করে। দানাদার জাতীয় ফসল (যেমন: ধান, গম) ও তৈলবীজের (যেমন: সরিষা) ফলন বৃদ্ধিতে এটি কার্যকরী। ৫. TSP (টিএসপি - ট্রিপল সুপার ফসফেট) প্রধান কাজ: এটি উচ্চমাত্রার ফসফরাস (P) সমৃদ্ধ সার। উপকারিতা: এটি প্রধানত গাছের শেকড় গঠন এবং ফুল ও ফল ধরতে সাহায্য করে। এটি প্রয়োগ করলে ফসলের পরিপক্কতা দ্রুত আসে। সংক্ষেপে মনে রাখার টিপস: ইউরিয়া: পাতা ও বৃদ্ধি। ডিএপি ও টিএসপি: শিকড় ও ফুল-ফল। পটাশ: রোগ প্রতিরোধ ও ফলের গুণমান।
পেঁয়াজ আবাদে নিশ্চিত ফলনের স্প্রে সিডিউল

পেঁয়াজ আবাদে নিশ্চিত ফলনের স্প্রে সিডিউল

পেঁয়াজের আশানুরূপ ফলন পেতে থ্রিপস (পোকা) এবং পার্পল ব্লচ (ছত্রাক) নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে জরুরি। নিচে বয়স ভিত্তিক তিনটি ধাপের স্প্রে তালিকা দেওয়া হলো: ১ম স্প্রে: প্রাথমিক সুরক্ষা ও চারা গঠন সময়: চারা রোপণের ১৫–২০ দিন পর। উদ্দেশ্য: চারা অবস্থায় পোকা আক্রমণ ও প্রাথমিক ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধ। উপাদানের নাম ডোজ (প্রতি লিটার পানিতে) কাজ ইমিডাক্লোরপ্রিড (১৭.৮% SL) ১ মি.লি. থ্রিপস ও এফিড (শোষক পোকা) দমন। ম্যানকোজেব (৭৫% WP) ২ গ্রাম পাতা মরা ও পচন রোগ প্রতিরোধ। ২য় স্প্রে: মধ্যবর্তী বৃদ্ধি ও রোগ নিয়ন্ত্রণ সময়: চারা রোপণের ৩৫–৪০ দিন পর। উদ্দেশ্য: ডাউনি মিলডিউ এবং পাতার দাগ (Purple Blotch) নিয়ন্ত্রণ। উপাদানের নাম ডোজ (প্রতি লিটার পানিতে) কাজ মেটালাক্সিল + ম্যানকোজেব ২ গ্রাম মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ দমন। সাইপারমেথ্রিন (প্রয়োজনে) ১ মি.লি. লেদা পোকা বা অন্য কোনো পোকার আক্রমণ ঠেকানো। ৩য় স্প্রে: কন্দ গঠন ও ফলন বৃদ্ধি সময়: চারা রোপণের ৬০–৬৫ দিন পর। উদ্দেশ্য: পেঁয়াজের আকার বড় করা, উজ্জ্বলতা বাড়ানো এবং সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি। উপাদানের নাম ডোজ (প্রতি লিটার পানিতে) কাজ ন্যাটিভো (ট্রাইফ্লক্সিস্ট্রোবিন + টেবুকোনাজল) ১.৫ গ্রাম গাছকে সতেজ রাখে ও রোগমুক্ত ফলন নিশ্চিত করে। NPK + মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট + PGR অনুমোদিত মাত্রা অনুযায়ী পেঁয়াজ দ্রুত মোটা করে এবং ওজন বাড়ায়। সফল চাষের জন্য কিছু জরুরি টিপস: আঠা বা স্টিকার ব্যবহার: পেঁয়াজের পাতা পিচ্ছিল হওয়ায় স্প্রে করার সময় সাবান পানি বা আঠা (Sticker) মিশিয়ে নিলে ওষুধ পাতায় ভালোভাবে লেগে থাকে। রোদের সময়: কড়া রোদে স্প্রে না করে বিকেলের নরম আলোয় স্প্রে করা সবচেয়ে কার্যকর। সতর্কতা: স্প্রে করার সময় অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করুন। কিছু বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডের নাম নিচে দেওয়া হলো। আপনি আপনার নিকটস্থ ডিলার বা দোকান থেকে এগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। ১ম স্প্রে-র জন্য (১৫–২০ দিন) উপাদান: ইমিডাক্লোরপ্রিড ১৭.৮% SL + ম্যানকোজেব ৭৫% WP ইমিডাক্লোরপ্রিড ব্র্যান্ডসমূহ: অ্যাডমায়ার (বায়ার ক্রপসায়েন্স) ইমিটাফ (সিঞ্জেন্টা বাংলাদেশ) টিডো (এসিআই ক্রপ কেয়ার) ম্যানকোজেব ব্র্যান্ডসমূহ: ডাইথেন এম-৪৫ (ইনতেফা/কর্ডোভা) ইন্দোফিল এম-৪৫ (অটোকন) পেনকোজেব (এসিআই) ২য় স্প্রে-র জন্য (৩৫–৪০ দিন) উপাদান: মেটালাক্সিল + ম্যানকোজেব এবং সাইপারমেথ্রিন মেটালাক্সিল + ম্যানকোজেব ব্র্যান্ডসমূহ: রিডোমিল গোল্ড (সিঞ্জেন্টা) — এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। ম্যাটারিল (এসিআই) মেলোডি ডুও (বায়ার) সাইপারমেথ্রিন ব্র্যান্ডসমূহ: রিপকর্ড (বাস্ফ/BASF) ফেনপেন (এসিআই) উস্তাদ (অটোকন) ৩য় স্প্রে-র জন্য (৬০–৬৫ দিন) উপাদান: ট্রাইফ্লক্সিস্ট্রোবিন + টেবুকোনাজল এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট/PGR ছত্রাকনাশক ব্র্যান্ড: ন্যাটিভো ৭২.৫ WG (বায়ার ক্রপসায়েন্স) — এটি কন্দ বড় করতে ও পচন রোধে দারুণ কাজ করে। NPK/মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ও PGR ব্র্যান্ডসমূহ: সলোবর বোরণ (স্কয়ার/এসিআই) - কন্দ ফেটে যাওয়া রোধে। ফ্লোরা (এসিআই) - গাছের বৃদ্ধির জন্য। লিটোসেন (এসিআই) - কন্দ গঠন ও ওজন বৃদ্ধির জন্য। মিরাকুলান - ভালো মানের PGR হিসেবে পরিচিত। বিশেষ পরামর্শ: পেঁয়াজের পাতার উপরের অংশ মোমের মতো মসৃণ থাকে, তাই ওষুধ যেন গড়িয়ে পড়ে না যায় সেজন্য অবশ্যই একটি ‘স্প্রে স্টিকার’ বা আঠা (যেমন: এসিআই স্টিক বা ডানস্টিক) প্রতিটি মিশ্রণের সাথে ব্যবহার করবেন।
৫০ দিন বয়সের পেঁয়াজের আগা হলুদ হওয়া ও শুকিয়ে যাওয়া: কারণ ও প্রতিকার

৫০ দিন বয়সের পেঁয়াজের আগা হলুদ হওয়া ও শুকিয়ে যাওয়া: কারণ ও প্রতিকার

পেঁয়াজ ক্ষেতে বিশেষ করে ৫০ দিন বয়সের আশেপাশে পাতার আগা হলুদ হওয়া এবং শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যাটি প্রায়ই দেখা যায়। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ১. সম্ভাব্য সমস্যা ও কারণসমূহ পুষ্টির অভাব: মাটিতে নাইট্রোজেন এবং পটাশিয়ামের ($K$) ঘাটতি থাকলে পাতার আগা হলুদ হয়ে যায়। এছাড়া সালফারের অভাবে গাছ ফ্যাকাশে ও দুর্বল হয়ে পড়ে। পানির অব্যবস্থাপনা: মাটিতে রসের তীব্র অভাব হলে পাতা শুকিয়ে যায়। আবার অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে শিকড় পচে পুষ্টি শোষণ বন্ধ হয়ে পাতা হলুদ হয়ে ঢলে পড়ে। ছত্রাকজনিত রোগ: পার্পল ব্লচ (Purple Blotch), ডাউনি মিলডিউ বা স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট রোগের কারণে পাতায় বেগুনি বা বাদামি দাগ পড়ে এবং আগা শুকিয়ে যায়। থ্রিপস (Thrips) পোকা: এটি পেঁয়াজের প্রধান শত্রু। এই পোকা পাতার রস চুষে নেয়, ফলে পাতায় সাদাটে বা রুপালি দাগ পড়ে এবং পাতা ক্রমশ শুকিয়ে যায়। ২. সমাধান ও করণীয় কৃষক ভাইদের জন্য কার্যকর পদক্ষেপগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ক. সার ব্যবস্থাপনা (৫০ দিনের পেঁয়াজের জন্য) গাছকে সতেজ ও শক্তিশালী করতে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করুন: ইউরিয়া: ১০-১৫ কেজি/বিঘা (উপরি প্রয়োগ)। পটাশ (MOP): ৫-৭ কেজি/বিঘা। সালফার (গন্ধক): ২-৩ কেজি/বিঘা (যেমন: জিপসাম বা ৮০% সালফার গুড়ো)। খ. সেচ ও পানি নিষ্কাশন মাটির আর্দ্রতা বুঝে সপ্তাহে অন্তত ১-২ বার পরিমিত সেচ দিন। বৃষ্টি বা অতিরিক্ত সেচের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য নালা পরিষ্কার রাখুন। গ. বালাইনাশক প্রয়োগ (ছত্রাক ও পোকা দমন) আক্রান্ত ক্ষেতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন: ছত্রাক দমনে: ম্যানকোজেব (Mancozeb) ২ গ্রাম অথবা প্রোপিকোনাজল (Propiconazole) ১ মি.লি. প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১২ দিন অন্তর স্প্রে করুন। পোকা দমনে: থ্রিপস দমনের জন্য ইমিডাক্লোপ্রিড (Imidacloprid) গ্রুপভুক্ত কীটনাশক ০.৫ মি.লি. প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন। ৩. জরুরি পরামর্শ পাতায় ওষুধ স্প্রে করার সময় সাথে সামান্য ডিটারজেন্ট বা 'স্টিকার' মিশিয়ে দিলে ওষুধ পাতার সাথে ভালোভাবে লেগে থাকে এবং ভালো ফল দেয়। স্প্রে করার উপযুক্ত সময় হলো রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলে।
পেঁয়াজের পাতা হলুদ হওয়ার প্রধান কারণগুলো

পেঁয়াজের পাতা হলুদ হওয়ার প্রধান কারণগুলো

পেঁয়াজ গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া চাষিদের জন্য বেশ চিন্তার বিষয়। এটি সাধারণত ভুল পরিচর্যা, পুষ্টির অভাব বা রোগের কারণে হয়ে থাকে। নিচে এর প্রধান কারণ ও প্রতিকারগুলো তুলে ধরা হলো: ১. সেচ ও আবহাওয়াজনিত কারণ অতিরিক্ত পানি: গোড়ায় পানি জমে থাকলে শিকড় পচে যায় (Root Rot), ফলে পাতা হলুদ হয়ে ঢলে পড়ে। পানির অভাব: মাটিতে রসের অভাব হলে গাছ পুষ্টি শোষণ করতে পারে না, ফলে আগা থেকে পাতা হলুদ হতে শুরু করে। তীব্র তাপমাত্রা: অতিরিক্ত গরম বা রোদেও পেঁয়াজ পাতা তামাটে বা হলুদ বর্ণ ধারণ করতে পারে। ২. পুষ্টির অভাব মাটিতে নির্দিষ্ট কিছু উপাদানের ঘাটতি থাকলে পাতা তার রঙ হারায়: নাইট্রোজেন (N): পুরো পাতা হালকা সবুজ থেকে হলুদ হয়ে যায়। সালফার (S): নতুন পাতাগুলো প্রথমে হলুদ হতে শুরু করে। পটাশিয়াম (K): পাতার কিনারা বা আগা পুড়ে যাওয়ার মতো হলুদ ও খয়েরি হয়ে যায়। ৩. রোগবালাই ও পোকা পার্পল ব্লচ (Purple Blotch): এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ। পাতায় বেগুনি দাগ পড়ে এবং ধীরে ধীরে পুরো পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যায়। থ্রিপস পোকা: খুব ছোট এই পোকাগুলো পাতার রস চুষে খায়, যার ফলে পাতায় সাদাটে-হলুদ ছোপ ছোপ দাগ পড়ে। ডাউনি মিলডিউ: বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকলে এই ছত্রাক আক্রমণ করে, ফলে পাতায় হলদেটে ও বেগুনী আস্তরণ পড়ে। ৪. মাটির গুণাগুণ অম্লীয় মাটি: মাটির pH মান ঠিক না থাকলে (পেঁয়াজের জন্য আদর্শ pH ৫.৫–৬.৫) গাছ মাটি থেকে সার গ্রহণ করতে পারে না। প্রতিকার ও করণীয় পেঁয়াজ ক্ষেত সুস্থ রাখতে আপনি এই পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন: সমস্যা করণীয় পানি নিষ্কাশন ক্ষেতে যেন পানি জমে না থাকে সে ব্যবস্থা করুন এবং নিয়মিত পরিমিত সেচ দিন। সুষম সার অনুমোদিত মাত্রায় ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ এবং জিপসাম (সালফারের জন্য) সার ব্যবহার করুন। ছত্রাকনাশক রোগের আক্রমণ দেখা দিলে 'ম্যানকোজেব' বা 'প্রোপিকোনাজল' গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করা যেতে পারে। পোকা দমন থ্রিপস দমনের জন্য সাবান পানি বা প্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহার করুন।
পেঁয়াজের গোড়া পচা রোগ: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

পেঁয়াজের গোড়া পচা রোগ: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

পেঁয়াজের গোড়া পচা একটি মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ, যা মূলত Fusarium oxysporum নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। ১. রোগের প্রধান লক্ষণসমূহ আক্রান্ত গাছ দেখে খুব সহজেই এই রোগ চেনা যায়: চারা ঢলে পড়া: ছত্রাকের আক্রমণে চারার গোড়া পচে যায় এবং চারা দ্রুত নেতিয়ে বা ঢলে পড়ে। পাতার পরিবর্তন: পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং শুকিয়ে মরে যেতে থাকে। পানি ভেজা দাগ: পাতার গোড়ার দিকে পচন ধরে অথবা ভেজা দাগ দেখা যায়, ফলে একসময় গাছ ভেঙে পড়ে। সহজে উপড়ে আসা: আক্রান্ত গাছের শিকড় পচে যাওয়ায় মাটি থেকে টান দিলে খুব সহজেই গাছটি উঠে আসে। ২. দমন ও প্রতিকার পদ্ধতি এই রোগ দমনে জৈব, রাসায়নিক এবং সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতির সমন্বয় করা প্রয়োজন। ক) জৈব পদ্ধতি ও জমি ব্যবস্থাপনা পানি নিষ্কাশন: জমিতে বা বেডে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। উন্নত নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাইকো-কম্পোস্ট: জমি তৈরির সময় প্রতি শতাংশে ৭-১০ কেজি ট্রাইকো-কম্পোস্ট ব্যবহার করলে ছত্রাক আক্রমণ কম হয়। খ) বীজ শোধন (বপনের আগে) সুস্থ চারা নিশ্চিত করতে বীজ শোধন অত্যন্ত কার্যকর: প্রতি কেজি বীজের সাথে ২.৫ গ্রাম কাডিম ৫০ ডব্লিউপি (Kadim 50 WP) মিশিয়ে ভালোভাবে শোধন করে নিতে হবে। গ) রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ আক্রমণ দেখা দিলে বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় (আর্দ্র ও উষ্ণ) নিচের ছত্রাকনাশকগুলো ব্যবহার করুন: ডাইথেন এম ৪৫ (Dithane M 45) অথবা রিডোমিল গোল্ড এমজেড (Ridomil Gold MZ)। আবহাওয়ার পরিস্থিতি বুঝে নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্প্রে করতে হবে। ঘ) সমন্বিত ব্যবস্থাপনা পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ: আক্রান্ত গাছ দেখামাত্র তুলে জমি থেকে দূরে নিয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে। ফসল পর্যায়: একই জমিতে বারবার পেঁয়াজ চাষ না করে ফসলের পর্যায় অনুসরণ করা উচিত।

পেয়াঁজ চাষীর মন্তব্য

10 + Years

অভিজ্ঞতা

30 + people

ডিলার

7000 + people

কাস্টমারস

9 + varieties

বীজের ধরন